রাতশেষে এক সময় ভোর হয়, সূর্য ওঠে। প্রকৃতির এ নিয়মে আশা করা যায়, করোনার এই দুঃস্বপ্নের রাতও একদিন অবসান হবে। সবকিছু আবার স্বাভাবিক হয়ে যাবে। নিশ্চয়ই হবে। কিন্তু করোনা দানব যে মারণকামড় বসিয়ে দিয়ে গেল পৃথিবী, পৃথিবীর মানুষ ও তার শরীরে, তার ব্যথা কি সহজে সারবে?
চীনের হুবেই প্রদেশের রাজধানী উহান। দেশটির গুরুত্বপূর্ণ শহর। ইতিহাস, ঐতিহ্য, অর্থনীতি এবং পর্যটনের জন্য পরিচিত। তবে এ বছর শহরটিকে নতুন করে পরিচিত করেছে প্রাণঘাতি ভাইরাস ‘করোনা’। ভাইরাসটি প্রলয় শুরু করেছে প্রাচীন শহর উহান থেকে। এখন কাঁপাচ্ছে বিশ্বকে।
সারা পৃথিবীতে যেন নেমে এসেছে অন্ধকার। করোনা ভাইরাস আতঙ্কে মানুষ লুকিয়েছে ঘরের ভেতর। হারিয়ে গেছে বাইরের কোলাহল। পৃথিবীর যে শহরগুলো রাত জেগে থাকতো, সেগুলোও এখন ঘুমের ছুটিতে। ধরা যাক ব্যস্ততম শহর নিউইয়র্কের কথাই। পৃথিবীর রাজধানী এই শহরটির আরেক নাম সদাজাগ্রত শহর। কিন্তু বৈশ্বিক মহামারিতে সেই নিউইয়র্কও এখন জেগে নেই। তন্দ্রায় ঢুলে আছে।
আচমকা বিশ্বকে বেসামাল পরিস্থিতিতে ফেলে দিয়েছে করোনা ভাইরাস। চীনের ওহান থেকে খুব নিঃশব্দে এর সূত্রপাত হলেও এখন দাপট দেখাচ্ছে গোটা বিশ্বে। প্রথম দিকে চীনের কাছেও ততটা গুরুত্ব পায়নি এই মরণব্যাধি। আর বাকি বিশ্ব ছিলো একেবারেই উদাসিন। তখনো কেউ ভেবে উঠতে পারেনি, এই ভাইরাস-ই পাল্টে দিতে যাচ্ছে পৃথিবীর নিয়ম-কানুন।
বিশ্ব প্রস্তুত হচ্ছিলো ভয়ঙ্কর এক যুদ্ধের জন্য। অস্থির হয়ে উঠেছিলো রাজনীতি। মুখোমুখি অবস্থানে ছিলো কয়েকটি বিশ্বশক্তি। চারদিকে যখন রণহুঙ্কার, ঠিক তখনি গর্জন করে মানুষের ওপর হামলে পড়লো প্রকৃতি। চীন দেশ থেকে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়লো করোনা ভাইরাস।